আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল মুদ্রা তৈরি

ছোট অংকের আসল টাকার নোট সিদ্ধ করে বড় অংকের নকল নোট তৈরি করত, এমন  একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তারা কজন  হলেন- সেলিম, মনির, মঈন, রমিজা বেগম, খাদেজা বেগম ও ১৫ বছরের এক কিশোর।

১০০ টাকার আসল নোটকে পানিতে সিদ্ধ করে রঙ তুলে ফেলার পর শুকিয়ে সেটিতেই দেয়া হয় ৫০০ টাকার ছাপ। ফলে টাকার কাগজ ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য প্রায় অক্ষুণ্ণ থাকে। ছাপাও এমন নিখুঁত হয় যে দেখে জাল বলে বোঝার কোনও উপায়ই থাকে না। এতে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পড়েন মানুষ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল মুদ্রা তৈরিতে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর ২৯ জুন,  সোমবার  গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানায় র‍্যাব-২।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে মিরপুরের ১২/ই ব্লকের ৬২ নম্বর বাসা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লকের ১৬১ নম্বর বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ  সময় ১০০০ টাকা মানের নোটের চার কোটি জাল টাকা ও ভারতীয় জাল রুপি আনুমানিক ৪০ লাখ পাওয়া যায়, যেগুলো ছিল ৫০০ রুপির ও দুই হাজার রুপির নোট। এছাড়া, জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস ও কাটার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া প্রায় ২৫/৩০ কোটি টাকার জাল নোট বানানোর কাঁচামাল যেমনঃ কাগজ, কালি ও জলছাপ দেওয়ার সমাগ্রীও পাওয়া গেছে। র‍্যাব -২ এর সহকারী পরিচালক এএসপি জাহিদ আহসান গনমাধ্যমকে জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন এবং ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র দেশব্যাপী জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিল। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটের লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাল টাকার কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!