নিউ ইয়র্কে আড্ডাই কাল হল বাংলাদেশিদের

আড্ডাবাজ বাঙালি

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় লাখের কাছাকাছি। মৃত্যুর এই মিছিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিমধ্যে দ্বিতীয়। প্রায় পাঁচ লাখের মত আক্রান্ত নিয়ে অচিরেই তারা প্রথম স্থান দখল করবে। দেশটি জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক আর চাপা মাতম।

সরকার বা কোনো স্টেটের পক্ষ থেকে মৃতদের কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে প্রথম আলো অনলাইন থেকে জানা যায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ৮৯ জন। প্রথম আলো তাদের কমিউনিটি যোগাযোগের মাধ্যমে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

মৃতের এই সংখ্যা কমিউনিটিতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কেন এত বাংলাদেশির মৃত্যু প্রশ্নের জবাবে, আমাদের কর্মজীবন, সচেতনতার অভাব, এমনকি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনাচারকে দায়ী করেন অনেকেই৷ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের আক্রান্ত হওয়া বা মারা যাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বেশির ভাগ প্রবাসী জীবীকার তাগিদে বাইরে যাওয়া, ক্যাব চালানো, রেস্টুরেন্ট কিংবা ডেলিভারিতে কাজ করে থাকেন। খুব সংখ্যক প্রবাসীরই ঘরে বসে ভার্চুয়ালি কাজ করার সুযোগ আছে। তবে আড্ডা প্রিয় বাংলাদেশিদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। লকডাউন জারির আগে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সবাই যখন আতঙ্কিত, তখনো প্রবাসীরা কোনো ধরনের সচেতনতা, প্রচার বা প্রস্তুতিতে যোগ দেননি।

নিউইয়র্কে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি সংগঠন আছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ও এসব সংগঠন নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, রেস্তোরাঁয় বসে সভা সমাবেশ করেছে। লকডাউনের প্রথম দিকটা অনেকের কাছেই আড্ডার মহাসুযোগ বলে মনে করেন । এবং তারা জানতেনও না একে অন্যের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন এই মহামারী।

এখন সেখানে যে অবস্থা শুরুর দিকে যদি এমনটা হত তাহলে হয়তো অনেকগুলো জীবন রক্ষা করা যেতো। তাই আর নয় অবহেলা, সচেতন হতে হলো, বাঁচতে হবে। বাঁচাতে হবে।

error: Content is protected !!