December 3, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

আটকেপড়া প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ বাড়াতে সৌদিকে চিঠি দিলো বাংলাদেশ

মহামারি করোনা সংক্রমণের পর দেশে এসে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়া নিশ্চিত করতে সে দেশের সরকারকে তিন মাসের জন্য ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই অনুরোধ জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। এর আগে তিন দফা ইকামার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। ওই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর।

ওই চিঠিতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে, ইকামা কিংবা ভিসা, বাংলাদেশের নাগরিকদের যার যেটা প্রয়োজন সেই অনুযায়ী মেয়াদ তিন মাসের জন্য যেন বাড়ানো হয়। ঢাকা ও রিয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশে আটকে পড়া সৌদি আরবে কর্মরতদের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়।

এছাড়া বৈঠকে এটাও বলা হয়েছে, সৌদি এয়ারলাইনসের কোনো ফ্লাইট বাংলাদেশ বাতিল করেনি। যেহেতু কয়েক হাজার সৌদিগামী লোকজন দেশে আটকা পড়েছেন, তাই সৌদি এয়ারলাইনস ওই সব লোকদের নিতে যে কয়টি ফ্লাইট চালাবে তার সবগুলোর অনুমতি দেবে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, এর আগে দুই দফায় তিন মাস করে ছয় মাস এবং সবশেষ এক মাসসহ তিন বার ইকামার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল বাংলাদেশিদের।
ফিরতি টিকেট নবায়নের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ করছেন সৌদি আরবের প্রবাসী শ্রমিকরা। সম্পূর্ণ বৈধভাবে দেশে আসা এসব শ্রমিক করোনা পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়েছেন। টিকেট নবায়ন করতে না পারার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়েছে।

বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও প্রবাসী শ্রমিকরা কারওয়ান বাজারে মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি এয়ারলাইনস কার্যালয়ের বাইরেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দাবি, টিকেট নবায়নের সুযোগ দিয়ে তাঁদের সৌদি আরবে ফেরার ব্যবস্থা করা হোক। এজন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন।

কয়েকদিন ধরেই টানা অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন জয়পুরহাট জেলার শামস সুমন (৪৫)। তিনি আজ দুপুরে বলেন, ‘আমার ভিসা, কাজের অনুপত্র, টিকেট সবই রয়েছে। গত তিন দিন টিকেট নবায়নের জন্য রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থান করছি। সৌদিতে ১৩ বছর ধরে কাজ করার পর দেশে এসেছি নয় মাস হলো। এখনো বিদেশ যেতে পারছি না। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এ নয় মাসে নিজের পকেটে যা ছিল সবই শেষ। এখন পথের ভিক্ষুক হয়ে গেছি।’

‘আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আমার ভিসার মেয়াদ এবং আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সৌদি যেতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। শুধু টিকেট নবায়নের জন্যই এত কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে’, যোগ করেন শামস সুমন।

শুধু শামস সুমন নন, তাঁর মতো হাজার হাজার প্রবাসী নারী-পুরুষ টিকেট নবায়নের জন্য ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করছেন। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে কথা হচ্ছিল মাদারীপুরের শিবচরের সালমা আক্তারের সঙ্গে। মধ্যবয়সী এই নারী জানান, অনেক আগেই স্বামী তাঁকে ছেড়ে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে করেছেন। উপায় না পেয়ে দুই ছেলেকে মা-বাবার কাছে রেখে তিনি তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তিন বছর পর দেশে এলে করোনা পরিস্থিতির কারণে আর যেতে পারছেন না।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে সৌদিতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে পারছে না তারা। অপরদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইটের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। তবে বিমানকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ায় এখনো ঝুলে আছে সৌদির ফ্লাইট পরিচালনার ভবিষ্যৎ।

ফ্লাইট চালানোর অনুমতি পাওয়ার পরই সৌদি এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রি শুরু করে। তবে আজ সকাল থেকেই তাদের প্রধান গেটের সামনে একটি কাগজে নোটিশ লিখে তারা জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সৌদি এয়ারলাইনসের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

গত সপ্তাহে বলা হয়, এ সপ্তাহে দেড় হাজার টিকেট দেওয়া হবে। কিন্তু ৫০ জনকে টিকেট দেওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, টিকেট শেষ। এসব টিকেট অনলাইনে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

error: Content is protected !!