আজ ২২ জুন দ্বিতীয় ধাপে নিউয়র্ক প্রাণবন্ত ; নিউইয়র্কবাসীর অনুভূতি

আজ ২২,  জুন সোমবার থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আরেক ধাপ খুলবে। কোভিড-১৯, করোনার মহামারি শুরু হবার রাজ্য সরকার  লকডাউন বাধ্যতামূলক ঘোষনার পর টানা প্রায় আড়াই মাস পরে ৮ জুন ও ২২ জুন, ২০২০ ধাপে ধাপে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নিউয়র্ক সিটি।

কোভিড-১৯ করোনার তান্ডব যখন মহামারীর আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর থেকে বাদ পড়ে নি। এমন কি বিশ্বের সব থেকে মহামারি শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। আর যুক্ত রাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে সর্বশীর্ষে এই মহামারী আঘাত করেছিল, বিশ্ব বাণিজ্যিক রাজধানী নামক খ্যাত নিউয়র্কে। 

এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ১৪ মার্চ, ২০২০ যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী ঘোষনায় লকডউন কার্যকরী হয়। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ, ব্যবসা বাণিজ্যে এবং নানা রকমের যান বাহনের কোলাহলে মুখরীত শহরটি মৃতপূরিতে রুপ নেয়। এ যেনো জীবন্ত মানুষের শহর নয়, লাশের শহরে পরিনত হয়েছিল শহরটি। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় মে মাসের শেষ পর্যায় থেকে জুনের ২১ দিনে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা আশাতীত কমতে শুরু করেছে। 

আর এই মৃত্যুর সংখ্যা ও সংক্রামনের সংখ্যা কমে আসাতে রাজ্য সরকার ধাপে ধাপে শহরটির লকডাউন তোলে দিচ্ছেন। প্রথম ধাপ শুরু হয় ৮ জুন থেকে। ২য় ধাপ শুরু হচ্ছে আজ সোমবার, ২২  জুন থেকে। আজকের আওতায়  থাকছে রেস্টুরেন্ট, বারবার শপ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আরো কিছু। তবে বাধ্যতামূলক নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সবাইকে প্রয়োজনীর কাজে যোগ দিতে হবে। । 

লকডাউন তোলে দেবার পর নিউ ইয়র্কের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করে জানা গেলো, তাঁদের অনুভূতি সম্বন্ধেঃ

কথা হলো লিবার্টি ট্যাক্স এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং নিউইয়র্ক, ব্রোঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সাথে। লকডাউন তোলে দেয়াতে তাঁর অনুভূতি কি জানতে চাইলে, তিনি জানান,” বিপদজ্জনক হলেও জীবনতো থেমে থাকতে পারে না। তাই কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও জীবনের প্রয়োজনে মানুষকে চলতে হবে, বের হতে হবে, কাজ করতে হবে, সাহস রাখতে হবে। এখন কেবলই সতর্কতা অবলম্বন করে সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে আমাদেরকে আগাতে হবে জীবন যুদ্ধে।”

লকডাউন এবং লকডাউন পরবর্তি ব্যাবসায় কি পরিমান ক্ষতি এবং বর্তমানে খোলে দেবার পর কি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে? জানতে চাইলে তিনি জানান, “ক্ষতিতো অবশ্যই হয়েছে যা পুষিয়ে নিতে অনেক সময় লাগবে। তবে বর্তমানে অন লাইনে কাজ চলছে লোকজন এখনো আগের মতো বের হতে পারছে না তারপরও ব্যবসা চালিয়ে যাব এক দিনতো সব ঠিক হবে এ আশায় আছি? 

লকডাউন চলাকালে কমিউনিটির মানুষের জন্যে তার কি কিছু করনীয় ছিল? জানতে চাইলে, তিনি বলেন, “ আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে আমরা রীতিমত গৃহবন্দী মানুষের জন্যে খাদ্য দ্রব্য, সেনিটাইজ দ্রব্য ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছি যা এখনো চলছে। প্রতি সপ্তায় একদিন আমাদের কর্মসূচীর আওতায় এসব সামগ্রী বিলি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষ এখনো বিপদ্মুক্ত হয়নি। তাই এদেশে বসবাসরত বাংগালী কমিউনিটির বিত্তবানদের উচিত নিজ নিজ এলাকায় কমিনিটির মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!