December 1, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

আগের শর্তেই খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়লো

শর্তসাপেক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য স্থগিতের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ দণ্ডাদেশ শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়া ঢাকায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন কিন্তু বিদেশ যেতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার আরও ৬ মাস মুক্তির ক্ষেত্রে আগে যেসব শর্ত ছিল সেগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপু আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির ক্ষেত্রে আগের দুটি শর্ত ছিল বিদেশ যেতে পারবেন না এবং নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এ দুটি শর্তে তাঁর (খালেদা জিয়া) মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শর্ত সাপেক্ষে আরো ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এই আবেদনে কিছু চায়নি। এ ছাড়া তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিল। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ছয় মাস স্থগিত করে এ সময় পর্যন্ত তাঁর মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দিয়েছি।

‘খালেদা জিয়া আগে যে শর্তে মুক্ত ছিলেন, এখনো সেই শর্তেই থাকবেন। বাসা ও দেশে থেকে তিনি চিকিৎসা নেবেন’, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।

গত ২৫ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাঁকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। মুক্তির পর থেকেই গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন তিনি, সেখানেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, এমনটা জানিয়ে তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ছয় মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ১১ মাস তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সম্পর্কিত দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া কারাভোগ করছিলেন।

এদিকে,বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে, এখনো তিনি পুরোপুরি মুক্ত নন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ফখরুল এ কথা বলেন। জাতিসংঘ কর্তৃক ২০০৭ সাল থেকে সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গনতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রচলিত একটি বিশেষ দিন, যা প্রতি বছর ‘১৫ সেপ্টেম্বর’ পালিত হয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত বাণীতে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তি মানুষের মর্যাদা সমুন্নত থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মানুষকে দাসে পরিণত করা যায় না। একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমাজেই কেবলমাত্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়। সারা বিশ্বে বহু মত, পথের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহকে ভুলুন্ঠিত করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এখনো একদলীয় দুঃশাসনের কালো ছায়া বিরাজমান। বর্তমানে বাংলাদেশে নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবিক সাম্য হরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কারও ছায়া দেখলেই আঁতকে উঠতে হয়।

error: Content is protected !!