আখিরাত ও মুমিন জীবনের লক্ষ্য

আখিরাত মুমিন জীবনের লক্ষ্য

মুমিন অর্থ বিশ্বাসী। মহান আল্লাহ তায়ালার একক সত্তা, তাঁর প্রেরিত রাসূল, ফিরিশতা, কিতাব, পরকাল এবং তাকদীরের ওপর আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপনকারী আল্লাহর গোলামকে ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মুমিন বলা হয়। মুমিনের পরিচয়ে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, ‘তারা তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হিফাজতকারী। আর মুমিনদের তুমি সুসংবাদ দাও।’ [সূরা তওবা : ১১২]।

মানুষের মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘সেদিন অবশ্যই আসবে যখন মুত্তাকী লোকদের আমি মেহমানদের মতো রহমানের দরবারে উপস্থিত করব। আর পাপী অপরাধী লোকদের পিপাসু জানোয়ারের মতো জাহান্নামের দিকে তেড়ে নিয়ে যাব। সেই সময় লোকেরা কোন সুপারিশ করতে সক্ষম হবে না তাদের ব্যতীত যারা রহমানের দরবার হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে।’ [সূরা মারিয়াম : ৮৫-৮৭]

একজন মুমিন সবসময় নিজেকে আল্লাহর ভালোবাসার চাঁদরে জড়িয়ে রাখতে চান। তার জীবনের সকল চাওয়া-পাওয়া হয় একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। তিনি তার রবের সন্তোষ অর্জনের জন্য যে কোন ত্যাগই স্বীকার করতে রাজি হন। দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা তাকে গ্রাস করতে পারে না। তার শয়নে-স্বপনে-কর্মে সবসময় জাগরুক থাকে আল্লাহর ভয় ও তাঁর ভালোবাসা। দুনিয়ার স্বার্থকে তিনি বড় দেখেন না, বড় দেখেন শুধু আখিরাতের মানজিল। তাই তিনি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যান তার লক্ষ্যপানে পৌঁছতে, আর বাসনার রাজ্যে পরম তৃপ্তিতে ভাসতে থাকেন রবের হুকুম পালন করার মানসিকতা নিয়ে। কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, সে ভাবনাই থাকে তার মনে সবসময়।

সফল জীবন লাভের জন্য একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। ইমাম গাযালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মানুষ অনাদি নয়, তাই চিরস্থায়ী। অর্থাৎ মানবজীবনের শুরু আছে শেষ নেই। তাই মানুষের উচিত এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা যা তার চিরস্থায়ী জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই যদি কেউ পার্থিব জীবনের মধ্যে তার জীবনের লক্ষ্য সীমিত রাখে, তাহলে তা হবে বুদ্ধিমত্তার পরিপন্থী।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনকে তার লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে, ১৷ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার চোখের মধ্যে দারিদ্র্য -দুর্দশা ঝুলিয়ে দিবেন। ফলে সে অভাব ছাড়া আল্লাহর আর কোনো নিয়ামত দেখতে পাবে না৷ ২৷ আল্লাহ তার কাজকর্ম সব বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। তার কোনো কাজ কর্মই সে গোছাতে পারবে না। এবং ৩৷ সবশেষে সে দুনিয়ার জীবনে ততটুকুই অর্জন করতে পারবে আল্লাহ যতটুকু তার জন্য বরাদ্দ রেখেছেন।

আর যে ব্যক্তি আখিরাতের জীবনকে তার লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে, ১৷ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার অন্তরে প্রশান্তি দিয়ে দিবেন এবং তার চোখে শুধু আল্লাহর নিয়ামত দেখতে পাবে। ২৷ আল্লাহ তার কাজকর্ম সব গুছিয়ে দিবেন। ৩৷ পৃথিবীকে তার বশীভূত করে দেন৷

সুতরাং দেখা যায়, আমরা যদি আখিরাতকে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করি তাহলে আমাদের দুনিয়ার জীবনেও সাফল্য আসবে। আর পরকালেও মুক্তির আশা করা যায়।

error: Content is protected !!