এবার বেশি ঝুঁকিতে গ্রোসারি স্টোর স্টাফরা

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সারা বিশ্বের দেশে দেশে লকডাউন চলছে। সরকারগুলো সব অনাবশ্যক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বন্ধ হয় নি সুপার মার্কেট এবং মুদি দোকান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর জন্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখা হয়।

এবারে বিভিন্ন সুপারমার্কেট থেকে তাদের স্টাফদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। আসছে মৃত্যুর খবরও। বিষয়টি এতদিন আলোচনায় না আসলেও সম্প্রতি নিউইয়র্ক, ইলিনয় এবং ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ওয়ালমার্ট, জায়ান্ট, এবং ট্রেডার জো’স এর কয়েকজন এমপ্লয়ির মৃত্যুর পরে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

করোনাভাইরাসের ভয়ানক থাবা থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিবার বা প্রিয়জনকে বাঁচাতে সবাই যখন নিরাপদে ঘরে বন্দী তখনো স্বাস্থকর্মীদের মতো সম্মুখ সারিতে কাজ করে যাচ্ছেন এসব লোক। পার্থক্য হলো স্বাস্থ্যসেবা দানকারীরা জানেন তারা সেবা দিচ্ছেন এমন লোকদের যারা ভয়ংকর জীবননাশক রোগ বহন করছেন। তাই তারা সচেতন। এছাড়া তারা পেশাগতভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রাখে। এবং নিজেকে রক্ষার ব্যবস্থাও তারা নিয়ে থাকে। কিন্তু গ্রোসারি বা সুপারশপের স্টাফরা একই ফ্রন্টলাইনে কাজ করলেও তারা জানেনা তারা করোনা আক্রান্তর সাথে কাজ করছে কিনা। ফলে তাদের মধ্যে একটা চাপা হতাশা কাজ করছে চরমভাবে।

ওয়ালমার্ট, জায়ান্ট বা ট্রেডার জো’স এর মতো বড় সুপারশপগুলো পর্যাপ্ত পিপিই সরবরাহ না করা এবং স্টাফদের তাপমাত্রা না মাপারও অভিযোগ শোনা গেছে। এমন অবস্থায় নতুন ও পুরনো স্টাফদের ধরে রাখা কঠিন বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ সব পিপিই দিয়ে ঘন্টাপ্রতি ২ ডলার বেশি বেতনের ঘোষণা দিয়েও কাজের লোক জোটাতে পারছে না চেইন সুপারশপ গুলো। অবশ্য ওয়ালমার্ট ঘোষণা দিয়েছে দেড় লক্ষাধিক লোক নিয়োগের।

যেহেতু সুপারমার্কেটগুলোতে স্পর্শ করার মতো অসংখ্য সারফেস বিদ্যমান যেমন কোনো রকমের জীবাণুনাশক ব্যবহার করা ছাড়াই বারবার একই শপিং কার্ট ব্যাবহার করা, ডোর হ্যান্ডেল ধরা, সেল্ফের বিভিন্ন জিনিস ধরে আবার রেখে দেওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন গবেষণার সুপারমার্কেটগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়বার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও জায়গা স্বল্পতার কারণে অথবা অসাবধানতাবশত অনেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারে না। এটাও করোনা মহামারী সংক্রমণ ছড়ানোর আরো একটি প্রধান কারণ।

error: Content is protected !!