আইসোলেশন আর কোয়ারেন্টিন ছাড়া পথ নেই

কোভিড, নন কোভিড…
এখন চালডাল মিশিয়ে বাছার মতই।

প্রতিটি হাসপাতালে ট্রায়াজে ফিভার, নন ফিভার রোগী আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যারা ট্রায়াজে কাজ করবেন, তারা রোস্টার শেষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

অপারেশন করতে হবে এমন সব রোগীর চিকিৎসা দেবার জন্য করোনা টেষ্ট করতে হবে।

সিজার, নরমাল ডেলিভারি করার সময় করোনা টেষ্ট করতে হবে।

যে কোনো ইনভেসিভ প্রসিডিওর যেমন ব্রঙ্কোসকপি, এন্ডোসকপি সবক্ষেত্রেই করোনা টেস্ট করতে হবে।

তারমানে নিশ্চিত হতে হবে কে কোভিড আর কে নন কোভিড।

সেটা না হলে একেএকে সব হাসপাতাল লক ডাউন হবে
আজ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল লক ডাউন।

সাধারণ রোগীর চিকিৎসা দেবার জন্য এটা জরুরি। নইলে চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মারা যাবে।

দেশে এ পর্যন্ত ৯০ জন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে; ডা. মো. মঈন উদ্দিন। এছাড়া তিনজন সুস্থ হয়ে ছুটি পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৩ জন। বাকিরা বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। সূত্র: বাংলা নিউজ

দেশে এ পর্যন্ত ৫৪ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের ২৮ জন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ২৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৫ জন। এই নিয়ে মোট মৃত্যু ৭৫ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় জ্বর কাশি নিয়ে মারা গেছেন আরো।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় ল্যাব স্থাপনে স্থানীয় মানুষদের বাঁধা।
তবে কি আমরা বোঝাতে ব্যর্থ?
জনগণকে বোঝানোর কাজটাও আমরা করতে পারিনি।
চোরপলান্তি খেলা আর কত?
টিলো এক্সপ্রেস খেলা তো জীবন নয়!
মাস্ক, পিপিই, গ্লাভস… এগুলো এখন টক শো মাতায়। আমরাদের কোনো উপকার হয় না।

ডাক্তারের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। ডাক্তার বোবা কালা… অন্ধ বধির!
রোবটের মত কাজ করে… আত্মহননের পথে হেঁটে চলে।
আত্মঘাতী হতে কি চেয়েছিল কেউ?

ক্লিনিক্যাল আর নন ক্লিনিক্যাল ডাক্তার…. বন্দুকের নলাটা তাক করা ক্লিনিক্যাল ডাক্তারের দিকে। জনগণ যত গালি সব দেয় এইসব ডাক্তারকে। কারণ সরাসরি তাঁরা চিকিৎসা সেবা দেন এবং নেন। কিন্তু নীতি নির্ধারকরা সবাই কিন্তু ক্লিনিশিয়ান নন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এসব বিষয় জানবেন। মহামারী তাঁদের বিষয়। নীতিমালা তাঁদের বিষয়। আর যেসব ডাক্তার গালিগালাজের মুখে…. তাঁরা শুধু রোগী দেখেন, সেবা দেন। কোনো নীতিমালা প্রনয়নের কাজে তাঁরা নেই। মাঠ পর্যায়ে, বিভিন্ন হাসপাতালে…..

আমরা কর্মী ডাক্তার। আমাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এবং সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হয়।

আমরা গালি খাই, মাইর খাই….. আমাদের কলঙ্ক তিলক কসাই নাম!

আমরা কোরবানি হই, বলির পাঁঠা হই…. আমাদের জন্য থাকে বিষোদগার।
টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট…..
এই ছাড়া বিকল্প নেই।
আইসোলেশন আর কোয়ারেন্টিন ছাড়া পথ নেই।
লক ডাউন তুলতে হলেও নিশ্চিত হতে হবে যে সংক্রমণ কমেছে।

লক ডাউন সঠিকভাবে না করলে লাভ নেই। বরং প্রলম্বিত হবে সময়।

সব কথার শেষে একটাই কথা…টেস্ট, টেস্ট এবং টেস্ট।
প্রান্তিক মানুষগুলোকে টেস্টের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন এখন সময়ের দাবি। কখন কি করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, কোথায় টেস্ট হবে, কখন টেস্ট করতে হবে, কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কখন আইসোলেশনে, কখন কোয়ারেন্টিনে, মৃত্যু হলে কি করতে হবে, কাকে জানাতে হবে মৃত্যুর খবর, কোথায় দাফন হবে…….

সুস্পষ্ট করে সবাই বোঝে এমন একটা গাইড লাইন এখন দরকার।

কেন সচেতন হতে হবে, কেন ঘরে থাকতে হবে, কেন সামাজিক দূরত্ব রাখতে হবে, কেন তথ্য জানাতে হবে,… জনগণের জন্য সহজ এবং বোধগম্য করে গাইড লাইন করা দরকার।

সাধারণ মানুষ ভয় পাবে, লুকোবে ইতিহাস, পালিয়ে যাবে..

এতে অবাক হবার কিছু নেই। দায়ভার আমাদের কাছেই বর্তাবে।

আমরা কোনোভাবেই এই দায়ভার এড়াতে পারি না। আমাদের সমন্বয়হীনতা এবার আমাদের হয়তো উলঙ্গ করে দেবে! কোথাকার কাপড় কোথায় নেবো আর কি ঢাকবো?

লেখক: ফারহানা নীলা, চিকিৎসক ও কবি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!