আইসিসি-বিসিসিআই দ্বন্দ্ব চরমে

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মারণ করোনা ভাইরাসের কারণে সবধরণের খেলাধূলা বন্ধ রয়েছে। এমনকি ঘরোয়া কোন ম্যাচও অনুষ্ঠিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসূচি নিয়ে আইসিসি এবং বিসিসিআইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ভারতীয় বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা পরিচালিত কোনও টুর্নামেন্ট আয়োজনের কোনও আগ্রহই দেখাচ্ছে না। শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসূচি নিয়ে আইসিসির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো প্রথম সারির দেশগুলি।

এ বছরের শুরুতেই ২০২৩ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত এই আট বছরের ক্রীড়াসূচি নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে আইসিসি। সব মিলিয়ে ২০২৩ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত এই আট বছরে মোট আটটি মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। আইসিসির প্রস্তাব অনুযায়ী:

২০২৩ সালে আয়োজিত হওয়ার কথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
২০২৪ সালে আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।
২০২৫ সালে আয়োজিত হবে ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।
২০২৬ সালে আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
২০২৭ সালে আবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে।
২০২৮ সালে ফের আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।
২০২৯ সালে আবারও আয়োজিত হওয়ার কথা ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।
২০৩০ সালে ফের আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
২০৩১ সালেও আয়োজিত হওয়ার কথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

কিন্তু, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার এই প্রস্তাবে বেজায় অখুশি ভারতীয় বোর্ড। ভারত চাইছে, আইসিসি টুর্নামেন্ট কমিয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাড়াতে। কারণ, আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে আয়ের টাকা দেশীয় বোর্ডগুলি পায় না। ফলে, এতে তাঁদের বড়সড় লোকসান হতে পারে। ভারত, ইংল্যান্ড-সহ প্রথম সারির বোর্ডগুলি চাইছে, এই টুর্নামেন্টগুলি ঘোষণার আগে আইসিসি আগামী ৮ বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়াসূচি প্রকাশ করুক।

এসবের মাঝে গত মাসেই আইসিসির তরফে সদস্য দেশগুলিকে এই মেগা টুর্নামেন্টগুলি আয়োজনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশের শেষদিন ছিল। আটটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য মোট ১২টি দেশ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৩টি প্রস্তাব পৌঁছেছে আইসিসির কাছে। প্রস্তাব পাঠিয়েছে আইসিসির অস্থায়ী সদস্য দেশগুলিও। কিন্তু ভারত কোনও প্রস্তাব পাঠায়নি। যদিও এর মানে এই নয় যে, ভারত এই টুর্নামেন্টগুলি আয়োজনের সুযোগ হারাল। কারণ, এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে দরপত্র চাইনি আইসিসি। টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে বৈঠকও হয়নি। তারপরই স্পষ্ট হবে বিসিসিআইয়ের অবস্থান।

error: Content is protected !!