অসুস্থদের শরীরে বেশিদিন বাঁচে করোনার জীবাণু

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে পাল্লা দিয়ে বাড়েছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে কোন কোন দেশে আক্রান্তের তুলনায় মারা যাচ্ছে অধিকহারে। আবার কোন দেশে মারা যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম। আবার আক্রান্তদের মধ্যে বেশি মারা যাচ্ছে পুরুষরা। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের গবেষকরা জানিয়েছেন করোনায় মৃতদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই কোন না কোন অসুখে আক্রান্ত ছিলেন।

এবার করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের গবেষকরা মত দিলেন যেসব ব্যক্তিরা আগে থেকেই অসুস্থ তাদের ওপর জেঁকে বসে কোভিড-১৯। তারা বলছেন, যারা আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগ ভুগছেন তাদের শরীরে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত থেকে যেতে পারে করোনা।

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি হাসপাতালের গবেষকদের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে গবেষকরা বলছেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফুসফুস ও মলে থেকে যেতে পারে করোনা। এবং যারা যতবেশি অসুস্থ তাদের শরীরে ততদীর্ঘ সময় থেকে যায় এই ভাইরাস। যেসব রোগীরা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভুগেছেন করোনায়, তাদের এই সময়ের প্রায় অর্ধেকেরও কম সময়ে প্রস্রাবে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে প্রথমদিকে রক্তে এই ভাইরাসের উপস্থিতি খুব কমই পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রভাবশালী চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে এর আগে যতগুলো গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, এটি তাদের থেকে ভিন্ন ধরনের।

জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে হাসপাতালের ৯৬ জন কোভিড-১৯ রোগীদের ওপর পরীক্ষা চালান। তারা এসব রোগীর নাক, গলা, শ্বাসযন্ত্রের গভীর (যেমন-ফুসফুস), রক্ত, মল ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন। এভাবে তারা দেখতে চেয়েছেন এই ভাইরাস রোগীদের শরীরে কতদিন স্থায়ী থাকে এবং অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাস অন্যদের শরীরে ছড়ায় কি-না।

তবে চীনা এই গবেষক দলের গবেষণা প্রতিবেদনে বিগত সময়ে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদনের একটি তথ্যের বিষয়ে মিল রয়েছে-সেটি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে অন্যদের মাঝে ছড়াতে পারে করোনা।

চীনা গবেষক দলের এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শ্বাসযন্ত্রে করোনাভাইরাসের টিকে থাকার মধ্যম সময়কাল ১৮ দিন। যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের শ্বাসযন্ত্রের গভীরে আঘাত হেনেছে করোনা। এবং আক্রান্ত নারীদের চেয়ে পুরুষদের শরীরে বেশি সময়কাল টিকে ছিল এই ভাইরাস।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!