অভিযোগ বিষয়ে মুখ খুললেন মাওলানা সাদ

ভারতের দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের অন্যতম উদ্যোক্তা মাওলানা সাদ কান্ধালভির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। আইনি চাপের মুখে পড়ে দিল্লি পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করার বার্তা দিয়ে চিঠি পাঠালেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে দেওয়া ওই চিঠিতে মাওলানা লিখেছেন, আমি ইতিমধ্যেই তদন্তে অংশগ্রহণ করেছি। দুটি নোটিশের উত্তরও জিয়েছি। ফের জানাচ্ছি যে, আমি সবসময় প্রস্তুত এবং আপনি যে তদন্ত করবেন তাতে আমি সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।

তাবলিগি মারকাজের জমায়েতের পর পরই, ওই কাণ্ডের অন্যতম উদ্যোক্তা মওলানা সাদ কান্ধালভির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ।

তাতে যোগ হয়েছে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও। গত ৮ এপ্রিল থেকে কোয়রান্টিনে রয়েছেন মওলানা সাদ। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, আইসোলেশন পিরিয়ড শেষ হলেই তিনি তদন্তের মুখোমুখি হবেন। সূত্রের খবর, দিল্লির জাকিরনগর এলাকায় একটি বাড়িতে রয়েছেন সাদ। সেটিকে চিহ্নিতও করেছে করেছে পুলিশ।

এর আগে নিজামুদ্দিন মসজিদে তাবলিগ জামাতের জমায়েত থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য বেশকয়েকজনের শরীরের করোনাভাইরাস শনাক্তও হয়েছে। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ি করা হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ভারতীয় প্রধান মাওলানা সাদ।

তার বিষয়ে অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কিছু সদস্য করোনাভাইরাসে পজিটিভ এসেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ তাবলিগ সদস্যই পরীক্ষায় নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

হিন্দুস্থান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভাইরাসটির বিস্তারের জন্য মারকাজ কি দায়ী? নিজেকে এই প্রশ্ন বারবার করে দেখেন, জবাব পেয়ে যাবেন। যখন ভারতে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, তখন সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

‘ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে পুরো মার্চজুড়ে আর কত জায়গায় এমন বড় জমায়েত দেখেছেন, তাদের কি এই রোগের জন্য দায়ী করা যাবে?’

তিনি বলেন, মার্চের ওই জমায়েতের সময়টি আগেই নির্ধারিত ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে ধর্মানুরাগীরা এতে অংশ নেন। মধ্যমার্চ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিকই যাচ্ছিল। কিন্তু কারফিউ শুরু হওয়ার পর কর্মসূচি বাদ দিয়ে লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছি।

তাবলিগ জামাতের কিছু বিদেশি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিসা নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কারণ তারা পর্যটন ভিসায় ভারত সফরে গেছেন। কিন্তু মারকাজ তাতে সায় দিয়েছে কেন জানতে চাইলে মাওলানা সাদ বলেন, লোকজন কয়েক দশক ধরে এভাবেই আমাদের দেশে আসছেন। কর্তৃপক্ষ কখনো এটা একটি ইস্যু হিসেবে তোলেননি।

‘কিন্তু পুলিশকে সবসময় আমরা বিদেশিদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে আসছি। তাবলিগে আসা বিদেশিদের ভিসার স্পন্সর দেয় না মারকাজ, তাদের আমন্ত্রণও জানায় না। আমার সীমিত জ্ঞান বলছে, ভিসা নীতির কতটা লঙ্ঘন হয়েছে, তাতে নজর দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

তবে তাবলিগকে বিদেশি তহবিল দেয়ার বিষয়টি একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। মাওলানা সাদ বলেন, এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের গর্ব হচ্ছে, মারকাজে কোনো অবৈধ তৎপরতা হয় না। আমরা সবসময় এসব থেকে দূরে থাকি। এ ধরনের কোনো নোটিস আমরা পাইনি। এসব অভিযোগ কেবল গণমাধ্যমেই রয়েছে।

এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারবেন বলেও জানান তাবলিগের এই আমির।

তাবলিগের ওই জমায়েতের অনুমোদন ছিল না বলে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মারকাজ নিজামুদ্দিনে প্রতিদিনই কোনো না কোনো কার্যক্রম থাকে। আর উন্মুক্ত পরিসরে বড় জায়গায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। সে জন্য কতৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে অনুমোদন নেয়া হয়।

দেশটির পুলিশের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে দিল্লির ওই এলাকায় প্রথমে জমায়েত করেন মওলানা সাদ কান্ধালভি। পরে জমায়েতে উপস্থিত সদস্যদের একটি ছ’তলা বাড়ির মধ্যে ঘিঞ্জি পরিবেশে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে রেখে দেন। কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের অভিযোগ, মূলত জামাত সদস্যদের মারফতই দেশের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও নিজামুদ্দিন থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ওই বাড়িটিতে পুলিশের নজর এড়িয়ে প্রায় দু’হাজার জামাত সদস্য কী ভাবে ছিলেন, সেই প্রশ্নও তুলছে বিরোধীরা।

প্রসঙ্গত, মারকাজ নিজামুদ্দিন মূলত একটি মসজিদ। সেখানে নিয়মিত ওয়াজ-নসিহত হয় পুরো বছরজুড়েই। কাজেই মসজিদ হিসেবে আমরা মনে করি না, সাধারণ ওয়াজ-নসিহতের জন্যও আমাদের অনুমোদন নিতে হবে সরকারের কাছ থেকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!