অভিনব প্রতারণার ফাঁদ বিদেশি খেলোয়াড়দের, আটক ৪

টুরিস্ট, খেলোয়াড় এবং স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে বিদেশিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুলে বসছে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ। বিদেশি পার্সেলের কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ চক্রের চার বিদেশি (নাইজেরিয়ান ও ঘানা) নাগরিককে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি টিম।বুধবার (২৬ আগস্ট) তাদের আটক করা হয়।

প্রতারণার অভিযোগে আটক চারজনের মধ্যে নাইজেরিয়ান দুই নাগরিক হলেন- মরো মহাম্মদ, মরিসনও এবং ঘানার দুই নাগরিক সিসম ও এন্থনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬টি ল্যাপটপ, বেশকিছু সিম এবং ৬টি বিভিন্ন মডেলের মােবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

চার বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে আসলে গণমাধ্যম দেখে চিৎকার করতে শুরু করেন তারা। নিজেদের বার বার খেলোয়াড় বলে পরিচয় দেন। আটককৃতরা খেলোয়াড় ও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে গত ৮ বছর আগে মাত্র ৩০ দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।
তবে এরপর তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রতারণা চালিয়ে যেতে থাকেন।
তবে সিআইডির এসএস সৈয়দা জান্নাতারা বলছে, খেলোয়াড় ও স্টুডেন্ট ভিসায় দেশে এসে। স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা চক্র। যেখানে পার্সেল গিফটের কথা বলে তারা হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।

বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফেসবুক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চার নাইজেরিয়া ও ঘানার নাগরিককে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফরহানের নেতৃত্বে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কাউলা ও ভাটারা এলাকা থেকে আটক করে। .প্রতারণার শিকার একজন ভিকটিমের অভিযােগের সূত্র ধরে সিআইডি তাদের আটক করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আটকদের মধ্যে আট বছর আগে খেলোয়াড় হিসেবে আসা মরো মহাম্মদ, মরিসনও রয়েছেন। বাকি দুই ঘানার নাগরিক সিসম ও এন্থনী এসেছিলেন এক বছরের স্টুডেন্ট ভিসায়। তাদের কেউই ভিসার মেয়াদ বাড়াননি।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, আটক আসামিরা অভিনব কায়দায় সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। বন্ধুত্বের একপর্যায়ে একটি তথাকথিত মেসেঞ্জার আইডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ পার্সেল উপহার পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং পরবর্তীতে মেসেঞ্জারে এসব মূল্যবান সামগ্রী এয়ারলাইন বুকিংয়ের ডকুমেন্ট পাঠায়। এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বলে তারা ভিকটিমকে অবহিত করে এবং তা কাস্টমস থেকে রিসিভ করতে বলেন। এ সময় তাদের অন্য সহযােগীদের মাধ্যমে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে মূল্যবান গিফটটি গ্রহণসহ শুল্ক বাবদ মােটা অংকের টাকা কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টে পরিশােধের জন্য চাপ দেয়।

গিফটটি রিসিভ না করলে আইনি জটিলতার ভয়ও দেখায়। ফলশ্রুতিতে ভিকটিম তাদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে মােট ৫৫ হাজার টাকা জমা দেয়।

একইভাবে আসামিরা পরস্পর যােগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সারাদেশে অসংখ্য ভিকটিমের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা গত কয়েক মাসের মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে মর্মে সিআইডি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে। আটক বিদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে এ ধরনের প্রতারণা করে এলেও এদেশে তাদের অবস্থানের বৈধ কোনো কাগজপত্র এবং পাসপাের্ট প্রদর্শন করতে পারে নাই।

সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, প্রথমত তারা ট্যুরিস্ট, খেলােয়াড়, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু এজেন্টের সহায়তায় এ ধরনের প্রতারণা করেন।

প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক একাউন্টগুলাে সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে জড়িত এদেশীয় সহযােগীদের আইনের আওতায় আনতে সিআইডি কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় আসা আফ্রিকানদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধ চক্রে জড়িত এমন চক্রে প্রতারণার শিকারদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও এ বছর তারা কী করে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন তা, খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!