November 25, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

অবশেষে মায়ের কোলে ফিরলেন সেই রায়হান কবির

নানা নাটকীয়তা শেষে মায়ের কাছে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি রায়হান কবির। শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরে তার নিজ বাড়িতে ফেরেন।
মালয়েশিয়ায় লকডাউন চলাকালে প্রবাসীদের ওপর দেশটির সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রায়হান কবির। গত ৩ জুলাই ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আল জাজিরা। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেন রায়হান।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রায়হানকে মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করে মালয়েশিয়া পুলিশ। এরপর ২৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয় তাকে। গ্রেফতারের পর দুই দফায় ২৭ দিন রিমান্ডে নিলেও রায়হানের বিরুদ্ধে কোনও চার্জ গঠন করতে পারেনি দেশটির পুলিশ। পরে ২১ আগস্ট রাতে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটিতে প্রবেশে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

শনিবার রাত ১টায় মালয়েশিয়ান এয়ালাইন্সের একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। পরে ইমিগ্রেশনসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভোরে বাসায় ফেরেন।

রায়হান কবির জানান, গ্রেফতারের পর শারীরিক নির্যাতন না করলেও চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। একটি পোশাক পরেই ছিলেন গ্রেফতার হওয়া থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত। কিছুই আনতে পারেননি সেখান থেকে। বিমানবন্দরে আসার পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে নতুন জামা পরতে দেন।
এদিকে, রায়হানের ফিরে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই তাকে দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীরা।

ছেলেকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন আপ্লুত মা রাশিদা বেগম। রায়হান কবিরের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা বলেন, ভাইকে ফিরে পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় শান্তির। টাকা পয়সার কোনও প্রয়োজন নেই। বড় ভাই মায়ের বুকে ফিরে এসেছেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সান্ত¡না।

২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যান রায়হান কবির। ২০১৭ সালে কুয়ালালামপুর টিএমসি ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কোর্স শেষে ভর্তি হন এমবিএতে। লেখাপড়ার খরচ চালাতে কাজ নেন সেখানকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
মালয়েশিয়রা অভিবাসন আইনের ১৯৫৯/৬৩ ধারায় রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে তদন্তের সহযোগিতা করার জন্য তাকে গ্রেফতার করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তার কিছু দিন পর ২৪ জুলাই রাজধানীর জালান পাহাংয়ের একটি কনডোমোনিয়াম থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে দেশি-বিদেশি নানান মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার হয় রায়হান কবিরের মুক্তির বিষয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিনা শর্তে মালয়েশিয়া সরকার ১৯ আগস্ট রায়হান কবীরকে মুক্তি দিয়ে বাধ্য হন। পরিবারের পক্ষ থেকে যারা রায়হানের পক্ষে স্ট্যান্ড নিয়েছে আয়েবা, ডব্লিউবিও এবং মিডিয়া কর্মীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

error: Content is protected !!